বাংলা ভাষায় প্রকাশিত তাফসীরগ্রন্থের তালিকায় বয়ানুল কুরআন অন্যতম প্রসিদ্ধ ও সমাদৃত
58, Kha para, Tongi, Gazipur, Dhaka
Visit Store
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত তাফসীরগ্রন্থের তালিকায় বয়ানুল কুরআন অন্যতম প্রসিদ্ধ ও সমাদৃত একটি তাফসীর।
পবিত্র কুরআন বুঝে পড়তে হলে তাফসীর বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের সহযোগিতা গ্রহণ করা আবশ্যক। আরবি ভাষায় নাজিল হওয়া কুরআনের বিভিন্ন ভাষার তাফসীরগ্রন্থ রয়েছে। ইসলামী স্কলারগণ বলেছেন, পবিত্র কুরআন চিরন্তন মুজিজা হওয়ার প্রামাণ হলো—১৪ শত বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কুরআনের তাফসীরগ্রন্থ রচিত হলেও আজও এর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। বাংলা ভাষাতেও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলা ভাষায় বহু তাফসীরগ্রন্থ রচিত ও অনূদিত হয়েছে এবং পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে।
পবিত্র কুরআন যথাযথভাবে অনুধাবন করার জন্য তাফসীর বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের সহায়তা গ্রহণ করা অপরিহার্য। যেহেতু কুরআন মাজিদ আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে, তাই যুগে যুগে বিভিন্ন ভাষায় এর তাফসীর রচিত হয়েছে। ইসলামী মনীষীরা বলেছেন, কুরআনের চিরন্তন মুজিজা হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো—চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর নানা ভাষায় অসংখ্য তাফসীরগ্রন্থ রচিত হলেও আজও এর প্রয়োজনীয়তা একটুও কমেনি। বাংলা ভাষাও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলা ভাষায় বহু তাফসীরগ্রন্থ অনূদিত ও রচিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষায় প্রকাশিত তাফসীরগ্রন্থগুলোর মধ্যে বয়ানুল কুরআন একটি সুপরিচিত ও বহুল সমাদৃত তাফসীর হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
বাংলা ভাষায় রচিত ও অনূদিত তাফসীরসমূহের মধ্যে বয়ানুল কুরআন তাফসীরবিশারদ ও কুরআন-গবেষকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এই তাফসীরগ্রন্থের রয়েছে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) গ্রন্থটির ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—এতে কুরআন মাজিদের সহজ ও প্রাঞ্জল তরজমা প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন শব্দের শাব্দিক অর্থ ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সংযোজিত হয়েছে। কুরআনের আয়াতসমূহের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও আপাত সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোর সুসমন্বিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক তাফসীরের মতামতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করা হয়েছে। মাজহাবসংক্রান্ত মতভেদের জায়গায় কেবল হানাফী মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গিই উপস্থাপন করা হয়েছে। কুরআনের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ও পূর্বাপর সম্পর্ক স্পষ্ট করার জন্য ‘যোগসূত্র’ শিরোনামে আলাদা ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের উপকারের সঙ্গে সঙ্গে আলেম-উলামাদের প্রয়োজন বিবেচনায় বিশেষ টীকা সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে সূরা ও আয়াতের মক্কী-মাদানী পরিচয়, দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা, বালাগাতশাস্ত্রের জরুরি দিক, জটিল বাক্যগঠন, ফিকাহ ও কালামসংক্রান্ত সূক্ষ্ম আলোচনা, শানে নুজুল, রেওয়ায়াত, কিরআত এবং বিভিন্ন বিধানের মতভেদ সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।
অতএব, বয়ানুল কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের প্রতি আগ্রহী পাঠক ও গবেষকগণ গভীর ও পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হতে পারবেন এবং কুরআন অনুধাবনে এই তাফসীরগ্রন্থটি একটি নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।