লেখক : শাইখ সিদ্দীক আল মিনশাভী
58, Kha para, Tongi, Gazipur, Dhaka
Visit Store
লেখক : শাইখ সিদ্দীক আল মিনশাভী
পৃষ্ঠা : 384
বিষয় : অনুপ্রেরণামূলক
সৃষ্টির সূচনা থেকেই যুগে যুগে বহু মনীষীর জন্ম হয়েছে। এদের একদল ছিলেন দুনিয়াবিমূখ, কিন্তু কর্মতৎপর। তারা দুনিয়াকে ভুলে যাননি ঠিক, কিন্তু এর চাকচিক্যে আবার হারিয়েও যাননি। নিজেদের আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ও মানুষের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যয় করেছেন গোটা জীবন। একান্ত নির্জনতায় যেমন স্রষ্টাকে ডেকেছেন, তেমনি লোকালয়ে গিয়েও স্রষ্টার দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন; আবার একইসাথে জীবন ও জীবিকাকেও দিয়েছেন অগ্রাধিকার। মোদ্দাকথা, দুনিয়ার বস্তুবাদী জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে শুধু মানুষের কল্যাণ নিয়েই ভেবেছেন এমন মনীষীর সংখ্যা অগণিত। এ তালিকার সর্বোত্তম মানুষটি হজরত মুহাম্মদ সা.; এরপর অসংখ্য নবি-রাসুল, শেষনবির প্রিয়তম সাহাবিগণ, তাবেয়িন এবং তাবে তাবেয়িনের একটি কাফেলা রয়েছে। তাদের থেকে বাছাই করে একশজন মনীষীকে নিয়ে আরববিশ্বের লেখক সিদ্দিক আল-মিনশাবির ‘দুনিয়াবিমুখ শত মনীষী’ গ্রন্থের অবতারণা।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে প্রথমেই রয়েছে শেষনবি মুহাম্মদ সা.-এর দীপ্তিময় জীবনের দুনিয়াবিমুখতার অংশ। একজন মানুষ—যিনি একইসাথে ছিলেন স্রষ্টার প্রেরিত একজন নবি, একজন রাষ্ট্রপ্রধান, একজন স্বামী ও পিতা, আবার তিনিই ছিলেন এসব ব্যস্ততাকে দারুণ কৃতিত্ব ও কর্তৃত্বে সামাল দিয়ে দুনিয়াবিমুখদের সর্বশ্রেষ্ঠ! এ এক বিস্ময় মানবজাতির জন্য। কখনো তাকে যেতে হয়েছে যুদ্ধে, কখনো সফরে, কখনোবা নানাবিধ ব্যস্ততায় ব্যস্ত হতে হয়েছে জীবন ও জীবিকায়! কিন্তু এই মানুষটি কখনো দুনিয়ার মোহে পড়ে ডুবে যাননি; বরং সর্ব মুহূর্তে জুহদের সোনালি জ্বলজ্বলে এক আলোক হাতের মুঠোয় সযত্নে রেখেছেন, যেন তাঁর জীবন ছাপিয়ে তা হয়ে ওঠে উম্মাহর জন্য অনন্ত এক শিক্ষা! মানুষ যেন হাজার বছর পরও বুঝতে পারে দুনিয়ার ব্যস্ততায় প্রকৃত জীবনকে ভুলে না যাওয়ার দীপিত সবক।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় নম্বরে যথাক্রমে হজরত দাউদ ও ঈসা আ. বিবৃত হয়েছেন। কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যে দাউদ আ.-এর দুনিয়াবিমুখতার গল্প কিংবদন্তির মতো ঘুরে বেড়ায় লোকমুখে; পাশাপাশি ঈসা আ.-এর দুনিয়াবিমুখতার গল্পও বহুল প্রচলিত। এরপর যথাক্রমে এসেছে ১৯ জন দুনিয়াবিমুখ সাহাবির জীবনের গল্প। প্রথমেই সর্বজনবিদিত প্রিয় সাহাবি হযরত আবু বকর রাজি.। তার দুনিয়াবিমুখতার কথা জানে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার!অতঃপর বাকি তিন মর্যাদাবান সাহাবি : উমর, উসমান ও আলি রাজি.। এরপর এসেছে ৭৮ জন তাবেয়িন ও তাবে তাবেয়িনদের দুনিয়াবিমুখ জীবনের গল্প; যারা তাদের ঈমান, ইখলাস ও মানুষের জন্য আত্মত্যাগে চিরভাস্বর হয়ে আছেন!
এ মহান মানুষগুলোর জীবনের গল্পের সাথে বর্তমান কর্পোরেট জীবনের একজন মানুষ যখন তার জীবনের দিনলিপি মেলাবে, তখন সে বুঝতে পারবে, আমাদের প্রোডাক্টিভিটি আসলে কী পরিমাণ কমে গেছে! আগেকার মনীষীগণ সারাদিন পরিশ্রম করেও সারারাত জায়নামাজে কাটাতে পারতেন। অথচ বর্তমান সময়ের মানুষগুলো গল্পে ও যাপনে যদিও আধুনিক, কিন্তু কর্মবাস্তবতার দিক থেকে তাদের থেকে এতটা পিছিয়ে গেছে যে, সেটি বলা মানে হতাশার বিপুল খতিয়ানই মেলে ধরা! পূর্ণ ইখলাস ও আত্মনিবেদনের যে প্রতিচ্ছবি আগেকার সময়ের মনীষীদের মধ্যে ছিল, এখন তা আর নেইই বলা যায়। অন্যদিকে মানুষ যদি দুনিয়ার মোহে পড়ে হারিয়ে যায় তার আসল গন্তব্য থেকে, তবে একদিন সে নিজেই নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে। তার থাকবে না কোনো পরিচয়, থাকবে না কোনো মৌলিক গন্তব্য। সেইসব দৃষ্টিকোণ থেকেই দুনিয়াবিমুখ শত মনীষী মানুষের দরোজায় কড়া নাড়তে চায়। এ বই অনুকরণময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষগুলোর জীবনের স্ক্রিনশট থেকে বাছাই করে দেখাবে—তুমুল ব্যস্ততার ভিতরও কীভাবে দুনিয়ার মোহে না হারিয়ে স্রষ্টার কাছাকাছি থেকে যাওয়া যায়!
মূল বইটি আরবিতে লেখা হয়েছিল। অনুবাদ করেছেন যথাক্রমে—আতাউল্লাহ আব্দুল জলীল ও ওয়ালিউল্লাহ আব্দুল জলীল নামে আরবিভাষাপটু দুই মেধাবী তরুণ। মূল গ্রন্থে বাছাইকৃত গল্পের মুন্সিয়ানার পাশাপাশি অনুবাদেও যে চমৎকার কাজ হয়েছে, তা পাঠক পড়তে বসেই টের পাবেন।
বর্তমান বস্তুবাদী দুনিয়ার এই চরম দুঃসময়ে বইটা হয়ে উঠুক প্রতিজন মুমিনের একান্ত আশ্রয়। আমাদের নিত্যপাঠের অংশ হোক দুনিয়াবিমুখদের জীবন নিয়ে লেখা এই বই।