লেখক : মুফতী মুহা. তাকি উসমানি
58, Kha para, Tongi, Gazipur, Dhaka
Visit Store
লেখক : মুফতী মুহা. তাকি উসমানি
পৃষ্ঠা : 139
বিষয় : সমাজ সংস্কার
ঘুণেধরা এই সমাজটা নিয়ে যারা ভাবেন কিংবা যারা না থাকলে পৃথিবীর ধ্বংস আরও ত্বরান্বিত হয়ে যেত, তাদের অন্যতম জাস্টিস মুফতি তাকি উসমানি। সমাজের অবক্ষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত এই মনীষী দুহাতে কাজ করে যাচ্ছেন। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটিও তার সেইসব প্রয়াসের অংশ। মাসিক আল বালাগে ধারাবাহিক ছাপা-হওয়া এই লেখাগুলো প্রথমে উরদুতে সংকলিত হয়ে পরে মাওলানা শফিকুল ইসলামের হাত ধরে বাংলায়ন হয়। আশা করছি, সমাজ সংশোধন নিয়ে যারা ভাবেন, এর থেকে বাঁচার পথ ও পরিক্রমা খোঁজেন—তাদের জন্য এই গ্রন্থটি একটি আলোকমশাল হবে।
বিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক পৃথিবীতে মনুষ্যসভ্যতার সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত উন্মাতাল অশ্লীলতা। এর পেছনে মূল দায়ী যদিও পুঁজিবাদ—কিন্তু দিনশেষে পুঁজিবাদের অস্ত্র ও টার্গেট তো আমরাই। একটা সমাজকে অসভ্য করতে যা যা প্রয়োজন, পুঁজিবাদ আমাদের মাঝে সগর্বে সেসব ছড়িয়ে দিচ্ছে, আর বোকার মতো আমরাও সেটাকে জীবন ও কালচার ভেবে আঁকড়ে ধরছি! পরিণামে জীবন ও মানবতা হয়ে পড়ছে ভঙ্গুর, সমাজের আদর্শিক সৌন্দর্য পুড়ে হচ্ছে ছাই, জীবন ও যাপনের সব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে অনৈতিকতা, পাপাচার আর উন্মাতল যৌনতা। এইসব ধ্বংস ও ধ্বংস্তুপ থেকে মুসলিম উম্মাহকে ফিরিয়ে আনতে যে কজন মনীষী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অন্যতম জাস্টিস মুফতি তাকি উসমানি। ‘সমাজ সংশোধনের দিকনির্দেশনা’ শিরোনামে সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে মাসিক আল বালাগে নিয়মিত যেসব লেখা লিখতেন, সেগুলোই প্রথমে উরদুতে সংকলন হয়ে, তারপর বাংলাভাষাভাষীদের জন্য এ গ্রন্থের প্রয়াস নেয় সম্ভ্রান্ত প্রকাশনা রাহনুমা প্রকাশনী।
একটি সমাজের ধর্মীয় ও স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার নেপথ্য কারণগুলোর বিশেষ কিছু কারণকে আলাদা করে কয়েকটি শিরোনামে বইটি পাঠকের দোরগোরায় হাজির হয়েছে নষ্ট-হওয়া সমাজ সংশোধনের ময়নাতদন্ত নিয়ে। প্রথম দিকে আলোচনা শুরু করা হয়েছে অশ্লীলতার সয়লাব ও নাচ-গানের ভয়াবহতা নিয়ে। প্রতিজন মুসলিমমাত্রই কিন্তু জানেন, এ দুটির ভয়াবহতা; সমাজে এর মর্মান্তিক ছোঁয়া ও সমাজ ধ্বংসে এর কী এগ্রেসিভ মনোভাব! লেখক কুরআন ও হাদিসের টেক্সটের মাধ্যমে এইসব অশ্লীলতার ভয়াবহতা তুলে ধরে সমাজ সংশোধনের নববি ভাষ্য তুলে ধরেছেন একান্ত হৃদ্যতার সাথে। একটা সমাজে কীভাবে বেহায়াপনা ছড়িয়ে পড়ে, কীভাবে মানুষ এটাতে মনস্তাত্বিকভাবে গ্রাস হয়, অঃতপর সে কীভাবে এইসব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে, এরও সহজ সমাধান বলে দিয়েছেন তিনি। লেখার শেষে অশ্লীলতার পার্থিব যে শাস্তি—এইডস, তা নিয়েও পাঠকের মুখোমুখি জ্ঞানগর্ভ আলোচনা নিয়ে হাজির হয়েছেন; পাশাপাশি মানজীবনে ক্রীড়া-বিনোদনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ধর্মীয় যে বয়ান, তাও স্পষ্ট করেছেন, যেন সমাজে ছড়িয়ে-পড়া প্রতিটি অবক্ষয় সম্পর্কে মানুষ সচেতন হতে পারে।
এমনিতে একটি সমাজ নষ্ট হওয়ার পেছনে যাদের অবদান তুলনামূলক বেশি, যেমন : বিনোদন ও জাতীয় পত্র-পত্রিকার সম্পাদক, ফিল্মমেকার কিংবা সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে যারা বড় ভূমিকা রাখে, তাদেরকে সতর্কবার্তার পাশাপাশি আল্লাহর বিধান সম্পর্কেও জানিয়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত উঠে এসেছে নারীর অধিকার ও পর্দার প্রশ্ন, যা বর্তমান সময়ে মুখ্য সমস্যাগুলোর একটি! নারী-অধিকার সংস্থার কিছু রিপোর্ট তুলে ধরে সরকারি ব্যবস্থা ও পর্দা নিয়েও জরুরি কিছু কথাবার্তা বলেছেন—যা একদিকে ইসলাহি বয়ান, অন্যদিকে ধর্মীয় আদর্শের পথ ও পন্থা। একজন মুসলিম নারীর জীবনে পর্দার বাস্তবতা ও সাংসারিক জীবনের খুঁটিনাটিকে মুখ্য করে যেসব সমস্যায় পড়তে হয়, তারও কিছু নমুনা তুলে ধরে এর পরিত্রাণের পথরেখা দেখিয়ে দিয়েছেন; বাতলেছেন সুন্নতি জীবনের ত্যাগ ও মহিমার ভাষ্য। পরিশেষে ফিল্ম নিয়ে বৈশ্বিক কিছু ঘটনা তুলে ধরে এর কারণে যে ইসলামি নিদর্শের গুরুতর অবমাননা হয়, তা নিয়েও পাঠককে সতর্ক করেছেন।